১. ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ কী?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) করপুটে বা হাতজোড় করে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: হাতজোড় করে বিনয় প্রকাশ করাকে ‘সপুটে’ বলা হয়েছে।
২. বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন কে?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) শাহ মুহম্মদ সগীর
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: শাহ মুহম্মদ সগীরকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. শাহ মুহম্মদ সগীর কোন সুলতানের সভাকবি ছিলেন?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে কাব্য রচনা করেন।
৪. কবি শাহ মুহম্মদ সগীর কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে অনুমান করা হয়?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) দরবেশ বংশে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: নামের শুরুতে ‘শাহ’ উপাধি থাকায় গবেষকরা ধারণা করেন তিনি দরবেশ বংশে জন্মেছিলেন।
৫. শাহ মুহম্মদ সগীরকে দরবেশ বংশের অনুমান করার কারণ কী?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) শাহ উপাধি থাকায়
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: 'শাহ' উপাধিটি সাধারণত দরবেশ বা ধর্মপ্রাণ সাধকদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।
৬. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ কোন অঞ্চলের সুলতান ছিলেন?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) গৌড়ের
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: তিনি প্রাচীন বাংলার গৌড় অঞ্চলের সুলতান ছিলেন।
৭. শাহ মুহম্মদ সগীরের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ইউসুফ জোলেখা
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ‘ইউসুফ জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীরের অমর সৃষ্টি ও শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
৮. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যটি কোন সময়ে রচিত হয়েছিল?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: সুলতানের শাসনকাল অনুযায়ী এটি ১৫শ শতকের শুরুর দিকে রচিত।
৯. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যটি কোন জাতীয় রচনা?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) অনুবাদ কাব্য
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: এটি ফারসি উপাখ্যানের ছায়া অবলম্বনে রচিত একটি শ্রেষ্ঠ অনুবাদ বা আখ্যান কাব্য।
১০. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যে ‘মহামতি তেহ্মি’ বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: কবি তাঁর পৃষ্ঠপোষক সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে মহামতি বলে অভিহিত করেছেন।
১১. শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে কোন অঞ্চলের ভাষার উদাহরণ পাওয়া যায়?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) চট্টগ্রাম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: কবির ব্যবহৃত শব্দভাণ্ডারে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
১২. সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকাল কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ১৩৯৩-১৪০৯
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী তাঁর রাজত্বকাল ১৩৯৩ থেকে ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দ।
১৩. ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনার মধ্য দিয়ে শাহ মুহম্মদ সগীর কী করতে চেয়েছেন?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) দেশি ভাষায় ধর্মীয় উপাখ্যান বর্ণনা
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে তিনি বাংলা ভাষায় ধর্মীয় কাহিনী বর্ণনা করেছেন।
১৪. শাহ মুহম্মদ সগীর কার পৃষ্ঠপোষকতায় কাব্যচর্চা করেন?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) গৌড়ের সুলতানের
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি কাব্যচর্চা করেন।
১৫. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি কী ধারণ করেছে?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) মানবিক প্রেম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: এতে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি গভীর মানবিক প্রেমের মহিমা ফুটে উঠেছে।
১৬. শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ১৪-১৫ শতকের
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: তাঁর সময়কাল চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে।
১৭. শিক্ষককে ‘দোসরি জরম’ বা দ্বিতীয় জন্মদাতা বলার কারণ কী?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) শিক্ষক শিক্ষাদান করে বড় করে তোলেন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: শিক্ষক জ্ঞান দানের মাধ্যমে মানুষকে নতুন জীবন বা দ্বিতীয় জন্ম দান করেন।
১৮. ‘কনে না শুধিবে তান ধারক কাহন’—চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) পিতার ঋণ শোধ করা যায় না
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: কবিতায় পিতার যে ঋণের কথা বলা হয়েছে তা কখনোই শোধ করা সম্ভব নয়।
১৯. ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করিউ মাও বাপ পায়’—তাহলে প্রথমে কাকে প্রণাম করতে হবে?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) আল্লাহকে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের কাব্যরীতি অনুযায়ী শুরুতে পরম স্রষ্টা বা আল্লাহর বন্দনা করা হয়।
২০. ‘বন্দনা’ কবিতার মূল সুর কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) পিতামাতার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা-ভক্তি জ্ঞাপন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পিতামাতা ও শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশই এই কবিতার মূল লক্ষ্য।
২১. ‘না খাই খাওয়ায়............ না পরি পরায়’—শূন্যস্থানে কী হবে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) পিতা
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘না খাই খাওয়ায় পিতা’, অর্থাৎ সন্তানের জন্য পিতার আত্মত্যাগ।
২২. মানবশিশুকে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে ‘মানুষের মতো’ করে গড়ে তোলেন কে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) শিক্ষক
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ওস্তাদ বা শিক্ষকই জ্ঞান দান করে মানুষকে সত্যিকারের মানুষ করেন।
২৩. শাহ মুহম্মদ সগীরের মতে, দ্বিতীয়ে কাকে প্রণাম করতে হবে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) মা-বাবাকে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: স্রষ্টার পরেই কবি পিতা-মাতাকে প্রণাম নিবেদন করেছেন।
২৪. ‘কনে না শুধিবে তান ধারক কাহন’—এখানে ‘কনে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) কখনো
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বাংলায় 'কনে' শব্দটির অর্থ 'কখনো'।
২৫. ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি পিতার চেয়েও বেশি প্রণাম করতে বলেছেন কাকে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) ওস্তাদকে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: কবি ওস্তাদ বা শিক্ষককে ‘পিতা হন্তে বড়’ বলে উল্লেখ করেছেন।