১. পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) অপিনিহিতি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: সময়ের আগে কোনো স্বরধ্বনি উচ্চারিত হওয়ার নামই হলো অপিনিহিতি (যেমন: আজি > আইজ)।
২. ‘স্কুল > ইস্কুল’ ধ্বনি পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় এর নাম কী?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) আদি স্বরাগম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: উচ্চারণের সুবিধার্থে শব্দের শুরুতে কোনো স্বরধ্বনি আসলে তাকে আদি স্বরাগম বলা হয়।
৩. কোনগুলো আদি স্বরাগম-এর উদাহরণ?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) স্ত্রী > ইস্ত্রী, স্কুল > ইস্কুল
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: এখানে 'স্ত্রী' ও 'স্কুল' শব্দের শুরুতে 'ই' স্বরধ্বনি যুক্ত হয়েছে, তাই এটি আদি স্বরাগম।
৪. মধ্যস্বরগম-এর অপর নাম কী?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) বিপ্রকর্ষ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এসে তাদের ব্যবধান বাড়িয়ে দেওয়াকে মধ্যস্বরগম বা বিপ্রকর্ষ বলে।
৫. বিপ্রকর্ষ-এর অপর নাম কী?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) মধ্যস্বরগম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: বিপ্রকর্ষ এবং মধ্যস্বরগম একই ভাষাতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার দুটি ভিন্ন নাম।
৬. একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হওয়াকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) অসমীকরণ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: শব্দের দ্বিত্ব বা একঘেয়েমি দূর করতে মাঝখানে নতুন স্বর আনাকে অসমীকরণ বলে (যেমন: ধপ + ধপ = ধপাধপ)।
৭. একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অন্য স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) স্বরসংগতি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: শব্দের একটি স্বরের প্রভাবে অন্য স্বরের সংগতি বা মিল বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে স্বরসংগতি বলে।
৮. কোনটি প্রগত স্বরসংগতির উদাহরণ?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) মুলা > মুলো
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: আগের স্বরের প্রভাবে পরের স্বর পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসংগতি বলে (যেমন: উ-কারের প্রভাবে আ-কার ও-কার হয়েছে)।
৯. কোনটি সম্প্রকর্ষ-এর উদাহরণ?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) জানলা
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: দ্রুত উচ্চারণের সময় শব্দের মাঝখান থেকে স্বরধ্বনি লোপ পাওয়াকে সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বলে (জানালা > জানলা)।
১০. ‘রিকসা > রিসকা’ কিসের উদাহরণ?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) ধ্বনি বিপর্যয়
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির জায়গা অদলবদল হওয়াকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
১১. ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) বাক্স > বাসক
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: এখানে 'ক' ও 'স' নিজেদের মধ্যে জায়গা বিনিময় করেছে, তাই এটি ধ্বনি বিপর্যয়।
১২. ‘লগ্ন > লগ্গ’ কোন সমীভবন?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) প্রগত
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের প্রভাবে পরবর্তী ব্যঞ্জনের পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
১৩. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) বিষমীভবন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পাশাপাশি অবস্থিত দুটি একই ধ্বনির একটির পরিবর্তন হওয়াকে বিষমীভবন বলে।
১৪. বিষমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) লাল > নাল
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: দুটি 'ল'-এর মধ্যে একটি 'ন' হয়ে যাওয়ায় এটি বিষমীভবন।
১৫. ‘বউদিদি > বউদি’—কিসের উদাহরণ?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ব্যঞ্জনচ্যুতি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পাশাপাশি দুটি একই পদের একটির বিলোপ হওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে।
১৬. অপিনিহিতি অথবা বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটায় তাকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) অভিশ্রুতি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: অপিনিহিতিজাত ই-কার বা উ-কার যখন সংলগ্ন স্বরের সাথে মিলে নতুন রূপ নেয়, তাকে অভিশ্রুতি বলে (যেমন: করিয়া > কইরা > করে)।
১৭. দুটি মৌলিক স্বরবর্ণ যোগে যে অক্ষর সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) যৌগিক স্বর
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি থাকলে এবং দ্রুত উচ্চারণের সময় একটি একক স্বরধ্বনি হিসেবে কাজ করলে তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
১৮. নিচের কোনগুলো নাসিক্য ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ণ ন ম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: বর্গের পঞ্চম বর্ণগুলো (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) উচ্চারণের সময় বাতাস নাক দিয়ে বের হয় বলে এদের নাসিক্য ধ্বনি বলে।
১৯. যৌগিক স্বরধ্বনিকে বলা হয়—
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবগুলো
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: যৌগিক স্বরধ্বনিকে ভাষাতাত্ত্বিকরা দ্বিস্বর, সন্ধিস্বর বা যুগ্মস্বর—এই সব নামেই অভিহিত করেন।
২০. ‘হ্ম’ এর বিশ্লিষ্ট রূপ কোনটি?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) হ + ম
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ‘হ’ এবং ‘ম’ বর্ণের মিলনে ‘হ্ম’ যুক্তবর্ণটি গঠিত হয় (যেমন: ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মপুত্র)।
২১. বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি মহাপ্রাণধ্বনি?
✓ সঠিক উত্তর: (খ) দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু জোরে বের হয় বলে এদের মহাপ্রাণধ্বনি বলা হয়।
২২. উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ব্যঞ্জন ধ্বনির বর্ণসমূহ তালব্য বর্ণ?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) চ ছ জ ঝ ঞ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: চ-বর্গের বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বা তালু স্পর্শ করে বলে এদের তালব্য বর্ণ বলা হয়।
২৩. কোনগুলো দন্ত্য ধ্বনি?
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ত, থ, দ, ধ, ন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ত-বর্গের বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ উপরের দাঁত স্পর্শ করে।
২৪. কোন স্বরবর্ণের কোন সংক্ষিপ্ত রূপ নেই?
✓ সঠিক উত্তর: (গ) অ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: স্বরবর্ণ ‘অ’-এর কোনো আলাদা সংক্ষিপ্ত রূপ বা ‘কার’ চিহ্ন নেই। একে ‘বিলীন স্বর’ও বলা হয়।
২৫. ট বর্গীয় ধ্বনির অপর নাম কী?
✓ সঠিক উত্তর: (ঘ) মূর্ধন্য ধ্বনি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ—এই বর্ণগুলোর উচ্চারণ স্থান হলো মূর্ধা, তাই এদের মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়।