১. সব প্রাণীর মস্তিষ্ক কি সমান? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) না
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: প্রাণিভেদে মস্তিষ্কের গঠন ও আয়তন ভিন্ন হয়। মানুষের মস্তিষ্ক সবথেকে উন্নত এবং জটিল কাজের জন্য সক্ষম। নিম্নশ্রেণির প্রাণীদের মস্তিষ্ক গঠন অনেক সরল এবং তারা কেবল সহজাত প্রবৃত্তি বা ইনস্টিন্ট দ্বারা চালিত হয়।
২. স্নায়ুতন্ত্রের একক বা গঠন ও কাজের একক কোনটি? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) নিউরন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক। এটি উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং সারা শরীরে তা পরিবহন করে স্নায়বিক সমন্বয় সাধন করে। নিউরনের প্রধান অংশগুলো হলো কোষদেহ, ডেনড্রন ও অ্যাক্সন। প্রতিটি নিউরন অন্য নিউরনের সাথে স্নায়ুসন্ধি বা সিন্যাপসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে, যা স্নায়ুপ্রেরণা চলাচলে সাহায্য করে।
৩. স্নায়ুকোষ বা নিউরনের প্রধান কয়টি অংশ থাকে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) 2টি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: একটি আদর্শ নিউরনের দুটি প্রধান অংশ থাকে: কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ। প্রলম্বিত অংশ আবার ডেনড্রন ও অ্যাক্সন নামে পরিচিত। কোষদেহ থেকে ডেনড্রন উদ্দীপনা সংগ্রহ করে এবং অ্যাক্সন তা পরবর্তী নিউরনে বা স্নায়ুপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। এই কাঠামোর মাধ্যমেই মানবদেহের সংবেদনশীলতা ও সমন্বয় নিয়ন্ত্রিত হয়।
৪. প্রলম্বিত অংশের কতটুকু অংশকে অ্যাক্সন বলা হয়? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) কোষদেহ থেকে দীর্ঘ একটি শাখা
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: নিউরনের কোষদেহ থেকে উৎপন্ন অপেক্ষাকৃত লম্বা এবং একটি মাত্র শাখা যা স্নায়ুপ্রেরণা বহন করে, তাকে অ্যাক্সন বলে। এর বাইরের দিকে মায়ালিন আবরণ থাকে যা প্রেরণা পরিবহনের গতি বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে কোষদেহ থেকে উৎপন্ন ছোট শাখাগুলো হলো ডেনড্রন। অ্যাক্সন নিউরনের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করে।
৫. মস্তিষ্কের প্রধান অংশ কয়টি? :
✓ সঠিক উত্তর: (খ) 3টি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক এবং লঘুমস্তিষ্ক। গুরুমস্তিষ্ক বুদ্ধিবৃত্তি, চিন্তা ও চেতনার কেন্দ্র। লঘুমস্তিষ্ক শরীরের ভারসাম্য রক্ষা ও পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের এই সুশৃঙ্খল বিন্যাস আমাদের প্রতিটি শারীরিক ও মানসিক কাজকে নিখুঁতভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে, যা স্নায়ুতন্ত্রের জটিল নেটওয়ার্কের অংশ।
৬. কোন অংশটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) লঘুমস্তিষ্ক
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম গুরুমস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত। এর প্রধান কাজ হলো দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা, শারীরিক নড়াচড়াকে মসৃণ ও সুশৃঙ্খল করা এবং পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করা। দেহের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে আমরা কোনো কিছুতে স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারতাম না বা হাঁটাচলা করতে পারতাম না, তাই এটি অপরিহার্য।
৭. দেহের প্রধান স্নায়ু কেন্দ্র কোনটি? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) মস্তিষ্ক
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মস্তিষ্ক মানবদেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ এবং যাবতীয় স্নায়বিক কাজের নিয়ন্ত্রক। দেহের উদ্দীপনা সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং যথাযথ প্রতিক্রিয়ার নির্দেশ পাঠানো মস্তিষ্কের কাজ। করোটির ভেতরে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে এবং মেরুরজ্জুর মাধ্যমে সারা শরীরের সাথে যুক্ত থেকে সমন্বয় সাধন করে।
৮. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা কীভাবে পরিবেশের সাথে সংযোগ রক্ষা করি? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) উদ্দীপনা গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আমরা বাহ্যিক উদ্দীপনা গ্রহণ করি। নিউরন এই উদ্দীপনাকে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তা বিশ্লেষণ করে নির্দেশ দেয়। এরপর পেশি বা গ্রন্থির মাধ্যমে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাই। এই জটিল স্নায়বিক প্রক্রিয়াই আমাদের পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বা সংযোগ রক্ষা করতে সহায়তা করে।
৯. একটি নিউরনের অ্যাক্সন প্রান্ত অন্য নিউরনের কোন অংশের সাথে যুক্ত থাকে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ডেনড্রন বা কোষদেহ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: স্নায়ুসন্ধি বা সিন্যাপসের মাধ্যমে এক নিউরনের অ্যাক্সন প্রান্ত অন্য নিউরনের ডেনড্রন বা কোষদেহের সাথে যুক্ত হয়। এই যুক্ত হওয়ার স্থানটি একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে থাকে, যা স্নায়ুপ্রেরণা এক কোষ থেকে অন্য কোষে পৌঁছাতে রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে। এভাবেই স্নায়ুপ্রেরণা সারা দেহে দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করে।
১০. মানুষের শরীরের সবচেয়ে লম্বা কোষ কোনটি? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) স্নায়ুকোষ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মানবদেহের স্নায়ুকোষ বা নিউরন দৈর্ঘ্যে প্রায় ১ মিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এই দীর্ঘ গঠনের কারণে এটি শরীরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুব দ্রুত সংকেত পাঠাতে পারে। স্নায়ুকোষের এই বিশেষ দৈর্ঘ্য আমাদের শরীরের সংবেদনশীলতা ও দূরবর্তী অংশের পেশি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
১১. হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে কী বলে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: যেসব গ্রন্থি নালিবিহীন এবং তাদের নিঃসরণ বা হরমোন সরাসরি রক্তে মিশিয়ে দেয়, তাদের অন্ত:ক্ষরা বা এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি বলে। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাক, বৃদ্ধি ও জনন নিয়ন্ত্রণ করে। নালিপথ ছাড়াই রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে হরমোন পৌঁছায়, যা স্নায়ুতন্ত্রের মতোই শরীরের বিভিন্ন কাজের সমন্বয় সাধন করে।
১২. পিটুইটারি গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) মস্তিষ্কের নিচে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যাকে অনেক সময় 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়। কারণ এটি শরীরের অন্যান্য অধিকাংশ এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিপাকীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তাই এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৩. থাইরক্সিন হরমোন কোথা থেকে নিঃসৃত হয়? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) থাইরয়েড গ্রন্থি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: থাইরক্সিন হরমোন গলার থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এই হরমোন দেহের বিপাকীয় হার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যদি থাইরয়েডের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, তবে থাইরক্সিনের নিঃসরণও কমবেশি হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
১৪. অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম কী? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ইনসুলিন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি, যা থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের নিঃসরণ কম হলে ডায়াবেটিস নামক রোগ হয়। অগ্ন্যাশয় তাই আমাদের শরীরের শর্করা বিপাক বা গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি গ্রন্থি।
১৫. কোন গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) পিটুইটারি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: পিটুইটারি গ্রন্থি শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয়। এটি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণ বা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পিটুইটারি গ্রন্থির ভারসাম্যহীনতা পুরো শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে।
১৬. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) বৃক্কের উপরে
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: প্রতিটি বৃক্ক বা কিডনির উপরে অবস্থিত ত্রিকোণাকার গ্রন্থিই হলো অ্যাড্রেনাল বা সুপ্রারেনাল গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের জরুরি পরিস্থিতিতে চাপ মোকাবিলা করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি আমাদের দেহের স্ট্রেস বা চাপের সময় তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
১৭. স্নায়ুর উদ্দীপনা পরিবাহী কোষকে কী বলে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) নিউরন
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: উদ্দীপনা বা সিগন্যাল গ্রহণের কাজ স্নায়ুকোষ বা নিউরন করে। এটি বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। নিউরনের ডেনড্রন উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষে পাঠায় এবং কোষদেহ থেকে অ্যাক্সনের মাধ্যমে তথ্য অন্য কোষে যায়। এভাবেই আমাদের স্নায়ুতন্ত্র কাজ করে।
১৮. স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) 2টি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে ভাগ করা যায়। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে বের হওয়া অসংখ্য স্নায়ু নিয়ে গঠিত যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে উদ্দীপনা আদান-প্রদান করে।
১৯. মেরুরজ্জু কোথায় সুরক্ষিত থাকে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভেতর
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: মেরুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড মস্তিষ্কের পেছন থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের কশেরুকা বা হাড়ের নলের ভেতর দিয়ে চলে যায়। এই সুরক্ষিত নলের মাধ্যমে মেরুরজ্জু বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা পায়। এটি মস্তিষ্কের সাথে দেহের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করে এবং প্রতিবর্তী ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
২০. নিউরনের কোষদেহের প্রলম্বিত অংশ কয় ধরণের? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) 2টি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: নিউরনের কোষদেহ থেকে দুই ধরণের প্রলম্বিত অংশ বের হয়: ডেনড্রন ও অ্যাক্সন। ডেনড্রন শাখা-প্রশাখা যুক্ত হয়ে উদ্দীপনা গ্রহণ করে, আর অ্যাক্সন লম্বা একক শাখা হিসেবে উদ্দীপনা বহন করে। এই দুই অংশ নিউরনের গঠনের মূল উপাদান যা স্নায়ুপ্রেরণার আদান-প্রদানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২১. স্নায়ুতন্ত্রের কাজ কয়টি প্রধান ভাগে করা সম্ভব? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) 3টি
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: স্নায়ুতন্ত্র তিনটি প্রধান কাজ করে: উদ্দীপনা গ্রহণ, গৃহীত উদ্দীপনা বিশ্লেষণ এবং প্রতিক্রিয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো। মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু এই কাজগুলো সমন্বয় করে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই আমরা পরিবেশের যেকোনো পরিবর্তন অনুভব করি এবং তদনুসারে শারীরিক নড়াচড়া বা গ্রন্থির নিঃসরণ ঘটিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাই।
২২. নিউরনের অ্যাক্সন কী দ্বারা আবৃত থাকে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) মায়ালিন আবরণ
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: অ্যাক্সনের বাইরের দিকে চর্বিযুক্ত একটি আবরণ থাকে, যা মায়ালিন আবরণ বা শীত নামে পরিচিত। এই আবরণটি স্নায়ুপ্রেরণার পরিবাহন গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মায়ালিন আবরণ ছাড়া স্নায়ুপ্রেরণা খুব ধীরগতিতে চলাচল করতো, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৩. ডেনড্রন থেকে উৎপন্ন শাখাগুলোকে কী বলে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) ডেনড্রাইট
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: ডেনড্রন থেকে উৎপন্ন ছোট শাখাগুলো ডেনড্রাইট নামে পরিচিত। এই ডেনড্রাইটগুলো উদ্দীপনা সংগ্রহের এলাকা বাড়িয়ে দেয়, যাতে নিউরন অন্য নিউরন থেকে সংকেত সংগ্রহ করতে পারে। ডেনড্রাইটগুলোই সাধারণত নিউরনের তথ্য গ্রহণকারী বা ইনপুট হিসেবে কাজ করে।
২৪. মস্তিষ্কের কোন অংশটি চিন্তা-চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) গুরুমস্তিষ্ক
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: গুরুমস্তিষ্ক বা সেরেব্রাম হলো মস্তিষ্কের সবথেকে বড় অংশ। এটি আমাদের স্মৃতি, চিন্তা, বুদ্ধি, চেতনা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের যেকোনো জটিল সিদ্ধান্ত বা সৃজনশীল কাজ গুরুমস্তিষ্কের সক্রিয়তার ফলেই সম্ভব হয়, তাই এটিকে মস্তিষ্কের প্রধান নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
২৫. লঘুমস্তিষ্ক কী নিয়ন্ত্রণ করে? :
✓ সঠিক উত্তর: (ক) পেশির সংকোচন ও দেহের ভারসাম্য
পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা: লঘুমস্তিষ্ক সেরিবেলাম নামে পরিচিত, যা শরীরের পেশির সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কোনো কারণে লঘুমস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয়। দেহের নিখুঁত অঙ্গভঙ্গি ও স্থিরতা নিশ্চিত করতে এটি অপরিহার্য।